সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

পথিকৃৎ-এর উদ্যোগে ছোটগল্প পাঠ

পথিকৃৎ-এর পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এ সময়ের তরুণ ছোটগল্পকারদের বৃহত্তর পাঠকসমাজের কাছে সরাসরি সৃজনশীলভাবে পৌঁছে দেওয়ার। গল্পকার তাঁর অপ্রকাশিত গল্প পড়ে শোনাবেন, শ্রোতৃমণ্ডলী সে গল্প সম্পর্কে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবে, গঠনমূলক প্রস্তাবনা উপস্থিত করবে। পথিকৃৎ-এর প্রত্যাশা, এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল গল্প হয়ে উঠতে পারে সবল, সম্পূর্ণ গল্প হয়ে উঠতে পারে আরও শাণিত। এই ভাবনার ভিত্তিতে ৪ অক্টোবর ২০২০ তারিখে ৭ টি গল্পের পাঠ ও পর্যালোচনা হল। যাঁরা গল্প পাঠ করেছেন তাঁরা হলেন: ১। প্রিয়াংকা দত্ত (সিদ্ধান্ত), ২। তন্ময় কুণ্ডু চৌধুরী (স্যানিটাইজেশন), ৩। নিশাস্মৃতি বন্দ্যোপাধ্যায় (হিয়ার মাঝে), ৪। মৃণাল শতপথী (ডলফিন), ৫। অন্তরা রুদ্র (পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা), ৬। সৌমেন সাহু (বখাটে) এবং ৭। শুভজিৎ সাহা (আলাপ)। সঞ্চালনা করেছেন কমল সাঁই। উপস্থিত ছিলেন পথিকৃৎ পত্রিকার অন্যতম পরিচালক, বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, শ্রী স্বপন ঘোষাল। প্রত্যেকটি গল্পেরই কমবেশি পর্যালোচনা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই কিছু ক্ষেত্রে একের সঙ্গে অন্যের মতপার্থক্য ঘটেছে। সব মিলিয়ে পথিকৃৎ-এর মনে হয়েছে, সামগ্রিকভাবে উপস্থিত সকলেই একটা উষ্ণতা, একটা সৃষ্টিশীল উদ্দীপনা অনুভব করেছে। সকলের আগ্রহ সাপেক্ষে পরবর্তী 'ছোটগল্প পাঠ ও পর্যালোচনা'র সম্ভাব্য দিন নির্ধারিত হয়েছে ৮ নভেম্বর ২০২০ (রবিবার)। শ্রী স্বপন ঘোষাল-এর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য : এ দিনের (৪ অক্টোবরের) কর্মসূচির শেষে ৭ জন তরুণ গল্পকার-সহ শ্রোতৃমণ্ডলীকে অভিনন্দন জানিয়ে শ্রী স্বপনঘোষাল তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, "এক কথায় আমি অভিভূত। এতগুলো সুন্দর গল্প শুনতে পেয়ে আজ যেন আমার আনন্দের সীমা নেই। তরুণদের মধ্যে এত শক্তিধর গল্পকার রয়েছে দেখে খুব আশান্বিত বোধ করছি। এই গল্পকারদের আমি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। প্রায় প্রত্যেকটি গল্পেরই নিজস্বতা আছে। গল্পের চরিত্রের প্রতি লেখকদের ভালোবাসা এবং দরদবোধ প্রকাশিত হয়েছে। ঘটনাগুলো, চরিত্রগুলো দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মধ্য দিয়ে, সংলাপের ধারা বেয়ে বিকশিত হয়েছে। এখনকার তরুণ লেখকদের ক্ষেত্রে এগুলো আমার কাছে অনেকটা আশাতীত, অপ্রত্যাশিত। পর্যালোচনা করতে গিয়ে মোটামুটি সকলেই বলেছেন যে, একটা গল্পের পরেই আরেকটা গল্প শুরু হওয়াতে রস গ্রহণে একটু অসুবিধা হয়েছে। কারণ, আগের গল্পের রেশটা থেকে যাচ্ছে। এই যে 'রেশটা থেকে যাচ্ছে' এইটাও গল্পের সার্থকতার একটা অন্যতম বৈশিষ্ট্য।" "যাইহোক, একটা-দুটো গল্পের ক্ষেত্রে আমার মনে হয়েছে যে, হয়তো শেষটা আরেকটু প্রিসাইজ করা যায়। এটা আমার মনে হয়েছে বলে বলছি। আবার, এভাবে বলতে একটু সঙ্কোচবোধও করছি। কারণ, আপনারা যে দক্ষতার সাথে গল্প লিখেছেন, আমিতো নিজে তা পারি না। তাই আপনাদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। তবে, নানা ধরনের গল্প পড়ার ভিত্তিতে লক্ষ্য করেছি, যেসব গল্প অন্তরে নাড়া দেয়, চেতনাকে আন্দোলিত করে, বিবেক স্পর্শ করে সেই ধরনের ছোটগল্পগুলো হয় একেবারে নির্মেদ। একটা অতিরিত্ত বাক্যও সেখানে থাকে না। বিশেষত, গল্পের শেষে একটা আশ্চর্য টার্নিং একটা লিফটিং থাকে যা পাঠককে শুধু চমকিত করে না, তার সাথে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং উপলব্ধির স্তরকে এক উচ্চতর মাত্রায় পৌঁছে দেয়। মপাসাঁ থেকে শুরু করে সমারসেট মম, এরকম অনেকের গল্পে এ ব্যাপারটা আমরা দেখি। বাংলায় রবীন্দ্রনাথ-শরৎচন্দ্রের পরে সুবোধ ঘোষ প্রমুখের গল্পেও আমরা সেটা পাই, অসাধারণভাবে পাই।” "মপাসাঁর 'আলমারি' (The Wardrobe) হয়তো অনেকেই পড়েছেন। কী মর্মান্তিক গল্প। হৃদয় মুচড়ে দিয়ে যায়। এক দরিদ্র মহিলা। সমাজ তাকে দেহ ব্যবসায় নামতে বাধ্য করেছে। রাতে তাঁর ঘরে খদ্দের আসে। কেউ কেউ সারা রাতও থাকে। একদিন এক সারা রাতের খদ্দের হঠাৎ সেই ঘরের আলমারির দিক থেকে অদ্ভুত একটা শব্দ শুনতে পেল। সে জানতে চাইল, কীসের শব্দ। মহিলা এড়িয়ে গেলেন। একটু পর আবার শব্দ হল। তখনও মহিলা এড়িয়ে গেলেন। ফের শব্দ হওয়াতে লোকটি গিয়ে আলমারিটা খুলে ফেললেন। দেখলেন তার মধ্যে ভয়ে কুঁকড়ে কাঁদছে এক শিশু। লোকটি শিউরে উঠে মহিলার দিকে তাকালেন। মহিলা উৎকণ্ঠিত স্বরে জানালেন, কী করবো, আমার তো এই একটাই ঘর। বৈষম্যমূলক সমাজ মানবজীবনকে কী ভয়ঙ্কর করে তুলেছে! খদ্দের যদি সারা রাত থাকে তাহলে সারা রাতই শিশুটিকে ওই আলমারির মধ্যে অন্ধকারে একটা চেয়ারে ঘুমিয়ে থাকতে হয়। আজ সে কোনও ভাবে চেয়ার থেকে পড়ে গিয়ে ভয়ে কেঁদে উঠেছে। এই নিয়ে গল্প। এ গল্পের শেষটা লক্ষ্য করবেন। মূল ব্যাপারটা প্রকাশ হওয়ার পরে আর কিন্তু লেখক কিছু ব্যাখ্যা করেননি। খদ্দেরের।জবানীতে মাত্র ছোট্ট দুটি বাক্যে গল্পশেষ: "I also felt in-clined to cry. And I went home to my own bed." এই হল সেই সময়কার ফ্রান্স।" "এরকমই পাবেন সুবোধ ঘোষের 'সুন্দরম' গল্পে। কৈলাস ডাক্তারের তথাকথিত ভদ্র ছেলে সুকুমারের লালসার শিকার হয়ে গর্ভবতী হয়ে পড়ে পশ্চিমা বেদিয়ার মেয়ে তুলসী। শেষপর্যন্ত অন্তঃসত্ত্বা তুলসীকে বিষ খাইয়ে খুন করে সুকুমার। ময়নাতদন্তের টেবিলে লাশ ব্যবচ্ছেদ করতে গিয়ে তুলসীর গর্ভ আবিষ্কার করেন কৈলাস ডাক্তার। গল্প শেষ হয় এক ডোমের মুখে একটা ছোট্ট সংলাপে: "শালা, বুড়ো নাতির মুখ দেখছে।” "যাই হোক, আজ আমি অত্যন্ত আনন্দিত এটা দেখে যে, আপনারা আজ যারা গল্প পড়লেন তাদের প্রত্যেকের কমবেশি ক্ষমতা আছে। পারস্পরিক আদানপ্রদানে একে আরও ক্ষুরধার করুন। আরও মনে রাখার মতো গল্প লিখুন। আর, একটা আবেদন, আপনারা নিশ্চয়ই সহমত হবেন যে, নানা বিষয়ে প্রবন্ধ রচনার ক্ষেত্রে পথিকৃৎ পত্রিকার অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা থাকলেও ছোটগল্পের প্রশ্নে কিছুটা সীমাবদ্ধতা আমাদের আছে। এখানে যদি আপনারা এগিয়ে আসেন তাহলে পথিকৃৎ আরও সমৃদ্ধ হতে পারে। সবাইকেই আবারও আমি অনেক ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন জানাচ্ছি।" ¤ (পথিকৃৎ-এর অক্টোবর ২০২০ সংখ্যা থেকে নেওয়া)

পথিকৃৎ

আমাদের পত্রিকা ওয়েবসাইটের সাথে যুক্ত থাকুন এবং সর্বশেষ খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট নিয়মিত পান

যোগাযোগ

পথিকৃৎ
৮৮বি বিপিন বিহারী গাঙ্গুলী স্ট্রিট
কলকাতা ৭০০০১২

দূরাভাষ- 9433046280, 9433451998
ইমেইল- pathikritpatrika@gmail.com

গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ

© Pathikrit. All Rights Reserved. Designed By GenxByte