সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

'স্তালিনবিদ্বেষের মুখ: খ্রুশ্চেভের মিথ্যাভাষণ'

অরিন্দম মৈত্র

বিশ্ব সাম্যবাদী আন্দোলনের অবিসংবাদী নেতা ও অন্যতম অথরিটি স্তালিনের ভাবমূর্তিতে কালিমালেপনের কাজ বুর্জোয়া সংবাদমাধ্যম করে চলেছে দীর্ঘ দিন ধরে। পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী প্রচারমাধ্যমে তিনি চিত্রিত একজন প্রবল অত্যাচারী, রক্তলোলুপ, ক্ষমতালোভী একনায়ক হিসেবে যাঁর লাগামছাড়া অত্যাচারের বলি অসংখ্য মানুষ। তাঁর প্রশাসনের তথাকথিত অত্যাচারে নির্যাতিত, অবদমিত, নির্বাসিত, নিহত মানুষের সংখ্যা যে ঠিক কত- তা নিয়ে পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী প্রচারমাধ্যমের পক্ষেও কোনওরকম ঐক্যমত্যে পৌঁছনো সম্ভব হয়নি। সংখ্যাটা হাজার হাজারের অঙ্ক থেকে শুরু করে প্রথমে লক্ষ লক্ষ, তারপর মিলিয়ন (১০ লক্ষ) ও শেষে এমনকী কোনও কোনও ক্ষেত্রে কোটির অঙ্কে বলেও প্রচার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে এমন এক কঠোরতা, অনমনীয়, হৃদয়হীনতা ও এমনকী সহকর্মীদের সম্পর্কেও অনুভূতির চূড়ান্ত অভাবকে, নিজের হাতে সমস্ত ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত করা ও তাঁকে নিরঙ্কুশ করার একমুখী লক্ষ্যে যা হাজার হাজার অচেনা মানুষকে তো বটেই, এমনকী ঘনিষ্ঠতম সহকর্মীকেও নির্বাসনে পাঠাতে বা গুলি করে মারার নির্দেশ দিতে একবারও ফিরে ভাবার প্রয়োজনবোধ করে না। আর বিভিন্ন মাধ্যমে সেই প্রবল প্রচারের মহিমা আজ এমনই যে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কিছুটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। যে সমস্ত পরিচয়ে একদা তাঁকে চিনত, শ্রদ্ধা করত সারা বিশ্বের সাধারণ মানুষ, শ্রমিক কৃষক মধ্যবিত্ত, সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী সংগ্রামী মানুষ, রবীন্দ্রনাথ, রমা রলাঁ, বের্টোল্ট ব্রেখট প্রমুখ দেশবিদেশের মনীষীরা- সে সব মুছে ফেলার চক্রান্ত পুরো দমে চলছে আজও। বিশ্ব সাম্যবাদী আন্দোলনের এমন এক অবিসংবাদী নেতার চরিত্রহননে আসলে লাভ কাদের? সাধারণ মানুষের মনে যদি কোনও আন্দোলনের অন্যতম নেতা সম্পর্কেই এ ধরনের ধারণা একবার ভালোভাবে গেঁথে দেওয়া যায়, তবে সমগ্র আন্দোলনের পক্ষেই প্রাসঙ্গিকতা অর্জন হয়ে ওঠে অনেক বেশি কঠিন। তাই পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী শিবির স্তালিনের মতো নেতার বিরোধী প্রচারে যে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই প্রচারের মধ্যে সত্য কতটা আর তার উৎসই বা কী? আমেরিকার মন্টক্লেয়ার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক, প্রখ্যাত সোভিয়েত ইতিহাস বিশেষজ্ঞ ও গবেষক গ্রোভার ফার (১৯৪৪) সঠিকভাবেই চিহতি করেছেন এইসব প্রচারের আদি উৎস হিসেবে সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির বিংশতিতম কংগ্রেসে (১৯৫৬) তৎকালীন সোভিয়েত রাষ্ট্রপতি খুশ্চেভ প্রদত্ত গোপন ভাষণকে। প্রকৃতপক্ষে স্তালিনের মৃত্যুর তিন বছর পরে অনুষ্ঠিত এই কংগ্রেসেই স্তালিনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ শোনা যায় কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরা খুশ্চেভের সেই গোপন প্রতিবেদনে। যা পরবর্তীকালে পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী প্রচার মাধ্যমের বদান্যতায় ক্রমাগত ফুলে ফেঁপে উঠতে থাকে। সেই 'গোপন প্রতিবেদনে' বলা প্রতিটি অভিযোগকে তিনি এই বইয়ে আলাদা আলাদাভাবে খুঁটিয়ে পড়েছেন ও বর্তমানে অনেকাংশেই খোলা ও গবেষক এবং আগ্রহী ঐতিহাসিকদের নাগালে আসা সোভিয়েত নথিপত্রে প্রাপ্ত সমস্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে সেগুলির সত্যাসত্য বিচার করতে সচেষ্ট হয়েছেন। গ্রোভার ফার-এর সেই নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণারই ফসল 'স্তালিনবিদ্বেষের মুখ: খুশ্চেভের মিথ্যাভাষণ' গ্রন্থটি। গ্রন্থটির অনুবাদ করেছেন সিদ্ধার্থ ভৌমিক। প্রকাশক ন্যাশনাল বুক এজেন্সি। ১৯৫৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রদত্ত বিংশতিতম কংগ্রেসের এই 'গোপন প্রতিবেদন' নিয়ে পুঁজিবাদী প্রচারমাধ্যম যে কতটা উল্লসিত তা ধরা পড়ে লন্ডনের 'টেলিগ্রাফ পত্রিকা'য় এই ভাষণের পঞ্চাশ বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত একটি লেখায় একে 'বিংশ শতব্দীর সর্বাধিক প্রভাবশালী ভাষণ' বলে উল্লেখে। অন্যদিকে ঐ একই দিনে 'নিউ ইয়র্ক টাইমসে' প্রকাশিত আরেক প্রবন্ধে ২০০৪ সালে খুশ্চেভের জীবনী লিখে পুলিৎসার পুরষ্কারপ্রাপ্ত উইলিয়াম টাউবম্যান এই 'মহৎ কর্মের... বার্ষিকী উদযাপন' করার ডাক দেন। বইটির ভূমিকার টিকায় প্রথমেই তিনি তথ্য দিয়েছেন- "স্তালিনের মৃত্যুর তিন বছর পর, ১৯৫৬ সালের ২৪-২৫ ফেব্রুয়ারি সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির বিংশতি কংগ্রেসে রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে" ...(প্রদত্ত এই গোপন) ভাষণের বিষয়বস্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের ভিতর বেরোতে দেওয়া হয়নি, পার্টি সদস্যদেরও হাতে না দিয়ে শুধু পড়ে শোনানো হয়েছিল। রুশ ভাষায় প্রথম মুদ্রণ ১৯৮৮ সালে। অথচ মার্কিন সরকার ১৯৫৬ সালের ৪ জুনই তা প্রকাশ করেছিল।" আর তার ফল হয়েছিল এই যে তা "ঠাপ্ত যুদ্ধের সময় কমিউনিস্টবিদ্বেষীদের হাতে মারাত্মক অস্ত্র জুগিয়ে দিয়েছিল ....সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর আস্থা এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি তছনছ করে দিয়ে আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের প্রতীপ গতির সূত্রপাত করেছিল।" অর্থাৎ, ঐ তথাকথিত 'মহৎ কর্মটির' ফলাফল যে হয়েছিল আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক ও সাম্রাজ্যবাদীবিরোধী আন্দোলনের ক্ষেত্রে কতটা সুদূরপ্রসারী ও বিষময় এবং উলটে সাম্রাজ্যবাদীদের অনুকূলে, তা প্রথমেই আমাদের মনে করিয়ে দিয়ে লেখক মন দেন স্তালিনের বিরুদ্ধে এই ভাষণে তোলা বিভিন্ন অভিযোগগুলির সত্যাসত্য বিচারে। এ প্রসঙ্গে বইয়ের ভূমিকাতেই আমরা পাই কিছু তথ্য, যেমন ১৯৬২ সালেই 'দ্য নিউ লিডার'এর বিশেষ সংখ্যায় বিশিষ্ট মেনশেভিক বিশেষজ্ঞ (অর্থাৎ সোভিয়েতবিদ্বেষী) বরিস নিকোলায়েভস্কি মন্তব্য করেন যে, এই প্রতিবেদনে প্রুশ্চেভের কোনও কোনও বক্তব্য মিথ্যা। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন যে খুশ্চেভ এই ভাষণে স্তালিনের শেষজীবনের সন্ত্রাসমূলক কাজকর্ম তথা পীড়নকক্ষ নিয়ে "তদন্ত শুরু করার কৃতিত্ব দাবি করেছেন বটে, কিন্তু স্তালিনের মৃত্যুর পর কয়েকমাস ধরে এই তদন্ত থামিয়ে দেবার চেষ্টাই আসলে করেছিলেন।" দেখা যায়, Origin of the Great Purges গ্রন্থে প্রখ্যাত লেখক আর্চ গেটিও এই বিষয়ে একই ধরনের মিথ্যাভাষণের অভিযোগ তুলছেন। অর্থাৎ প্রশ্ন ওঠেই, দীর্ঘকাল ধরে চাপা থাকা সত্যকে উন্মোচনের উদ্দেশ্যে যে ভাষণ, তাতে মিথ্যা বা অসত্যকথনের জায়গা জোটে কী করে! ভূমিকা ছেড়ে এবার মূল বইয়ে প্রবেশ করলে আমরা দেখতে পাই, স্তালিনের তথাকথিত স্বরূপ উন্মোচনের সেই ভাষণে বস্তুত মিথ্যাভাষণ, অসত্যকথন ও ভুল বা বিকৃত তথ্যজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি। লেখক ফার এক্ষেত্রে খুশ্চেভের মূল ভাষণের উদ্ধৃতি উল্লেখ করে প্রতিটি অভিযোগ ধরে ধরে এগিয়েছেন ও বর্তমানে হাতে আসা বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন বাস্তবে সেই সমস্ত অভিযোগ কতটা মিথ্যা। সেই সঙ্গে বইয়ের পরিশিষ্ট অংশে তাঁর উল্লিখিত সমস্ত তথ্যের (প্রাসঙ্গিক দলিল, চিঠি, নোট) প্রাসঙ্গিক অংশ বা সম্ভব হলে পুরো অংশই সরাসরি তুলে দিয়েছেন, যাতে আগ্রহী পাঠক প্রয়োজনবোধে নিজেরাও যাচাই করে নিতে পারেন এ প্রসঙ্গে লেখকের বক্তব্যকে। এই সমস্ত দলিল, চিঠি বা নোট বর্তমানে ইন্টারনেটেও সহজলভ্য। কোথায় গেলে তা পাওয়া যাবে, সেইসব ইউ আর এল বইতে সংযোজিত হয়েছে। খুশ্চেভ তাঁর ভাষণে একেবারে শুরুতেই উল্লেখ করেন ব্যক্তিপূজার প্রসঙ্গ: "ব্যক্তিবিশেষকে তুলে ধরা, তাকে দেবতুল্য অতিন্দ্রিয় ক্ষমতাসম্পন্ন অতিমানবে রূপান্তরিত করা মার্কসবাদ-লেনিনবাদে অসংগত এবং স্বভাববিরোধী... সেই ব্যক্তি নাকি সর্বজ্ঞ, সর্বদর্শী, সবার হয়ে ভাবতে সমর্থ, সর্বকর্মে পারদর্শী এবং তাঁর আচরণ অভ্রান্ত। ব্যক্তিবিশেষ সম্পর্কে, বিশেষ করে স্তালিন সম্পর্কে, এই বিশ্বাস বহু বছর ধরে আমাদের মধ্যে চর্চিত।" গ্রোভার ফার স্তালিনের একের পর এক ভাষণ, অন্যদের সাথে বিভিন্ন কথোপকথন, লেখাপত্র, নোট, প্রভৃতির উল্লেখ করে দেখিয়েছেন- কীভাবে স্তালিন নিজে কিছু অতি উৎসাহী স্তাবকের 'স্তালিনপূজা'র বিরোধিতা করেন। আমরা জানতে পারি, ১৯৩৭ সালে পলিটব্যুরোয় মস্কো শহরেরই নাম পালটে 'স্তালিনোদার' (অর্থাৎ 'স্তালিনের উপহার') রাখার প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। কিন্তু স্তালিনের নিজেরই তাতে তীব্র বিরোধিতার কারণে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়। ১৯৩৮ সালে 'স্তালিনের ছেলেবেলার গল্প' নামক একটি বই প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্তালিন নিজেই তার বিরোধিতা করে বলেন-"...নেতার ব্যক্তিপূজা এবং ভ্রমপ্রমাদশূন্য বীরের ধারণা সোভিয়েত শিশুদের (এবং সাধারণভাবে সব লোকের) মনে গভীরভাবে প্রোথিত করার ঝোঁকটাই বিশেষ লক্ষ্যণীয়। এই প্রবণতা মারাত্মক এবং ক্ষতিকর। 'বীর' বনাম 'ভিড়'এর তত্ত্ব বলশেভিক নয়, সোশাল রেভোলিউশনারি।” (কমরেড রাজিনের উত্তরে) ১৯৪৫ সালের মে মাসে, অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেবার্লিনের পতনের মাধ্যমে নাৎসিদের বিরুদ্ধে অমন অবিস্মরণীয় জয় অর্জনের অব্যবহিত পরেই, সুপ্রিম সোভিয়েতের পক্ষ থেকে স্তালিনকে 'সোভিয়েত ইউনিয়নের বীর' খেতাব প্রদান করা হয়। কিন্তু স্তালিন এই খেতাব গ্রহণে তাঁর অসম্মতিজ্ঞাপন করে বলেছিলেন-"আমি সামরিক কোনও ক্রিয়াকলাপে যুক্ত ছিলাম না। বীরত্বের কিছু করিনি।” স্তালিনের মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই ১৯৫৩ সালের এপ্রিল মাসে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়ামের আলোচনায় ব্যক্তিপূজা নিয়ে মালেনকভউত্থাপিত প্রস্তাবেও উল্লিখিত হয়েছিল- "... কমরেড স্তালিন ইতিহাসে ব্যক্তির ভূমিকা সম্পর্কে অমার্কসীয়, সোশাল রেভোলিউশনারি ধারণার দৃঢ় নিন্দা করতেন।" অর্থাৎ, খুশ্চেভের অভিযোগ একেবারেই ঠিক নয়। পাশাপাশি লেখক দেখান যে খুশ্চেভ ও আনাস্তাস ইভানোভিচ মিকোয়ান প্রমুখ তাঁর সহযোগী যে সব নেতা স্তালিনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উত্থাপন করেন, অদ্ভুতভাবে '৩০-'৪০-এর দশকে তাঁরা প্রবল ভাবে স্তালিনের প্রশংসায় রত ছিলেন। ১৯৩৬ সালের নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত অষ্টম সারা ইউনিয়ন সোভিয়েত কংগ্রেসে খুশ্চেভ নিজেই প্রস্তাব দেন, যে নতুন সোভিয়েত সংবিধান কংগ্রেসে অনুমোদনের জন্য পেশ করা হয়েছে, তার নাম 'স্তালিন সংবিধান' দেওয়া হোক। কারণ, "...এটা প্রথম থেকে শেষপর্যন্ত কমরেড স্তালিনের লেখা।” অথচ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মলোটভ বা অন্য কেউ এই সংবিধান প্রণয়নে স্তালিনের এরকম কোনও বিশেষ ভূমিকার উল্লেখ করেননি। মিকোয়ান ১৯২৯ সালেই স্তালিনের ৫০তম জন্মদিবসে শুভেচ্ছা পাঠিয়ে দাবি জানান- "... জনগণের ন্যায়সঙ্গত দাবি অনুসরণ করে আমরা তাঁর জীবনী নিয়ে কাজ শুরু করবো এবং পার্টি ও দেশের সকল শ্রমজীবীর কাছে পৌঁছে দেবো।" অথচ এইধরনের ব্যক্তিপূজার উদ্যোক্তা যে আসলে গুপ্ত সংশোধনবাদীরাই তা পরিষ্কার হয়ে যায় জার্মান লেখক এল ফয়েখভাঙ্গের-এর লেখা থেকে। ১৯৩৬ সালেই তাঁর সাথে সাক্ষাতকারের সময় স্তালিন সন্দেহপ্রকাশ করেন যে এই ধরনের 'ব্যক্তিপূজার' আয়োজনের আসল উদ্দেশ্য 'অপযশ' সৃষ্টি। রয় মেদভেদেভও উল্লেখ করেছেন- ১৯৩৪ সালে প্রাভদার প্রথম সংখ্যায় কার্ল রাদেকের একটি দুই পৃষ্ঠাব্যাপী প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়, যা ছিল স্তালিনের অতিবন্দনায় পূর্ণ। লেখাটিকে এরপরে পুস্তিকাকারে ছেপেও প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়। অথচ পরে দেখা যায়, সেই রাদেক ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে মস্কো মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন। বুখারিনও যে এ বিষয়ে অবহিত ছিলেন, তাও তাঁর স্বীকারোক্তি থেকেই জানতে পারা যায়। স্তালিনের বিরুদ্ধে আরেক অভিযোগ তাঁর ভয়াবহ দমন অভিযান নিয়ে, যার স্বীকার নাকি অসংখ্য মানুষ। খুশ্চেভ এক্ষেত্রে তাঁর ভাষণে স্তালিনের একরকম যথেচ্ছাচারের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন- "NKVD মহাফেজখানার বহুবিধ উপাদান ও অন্যান্য নথিপত্র দেখেশুনে ... জাল মামলা, ভুয়ো অভিযোগ, সমাজতান্ত্রিক আইনের প্রকট অপব্যবহার সম্পর্কিত বহু ঘটনার প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। এর ফলে প্রচুর লোকের মৃত্যু হয়েছিল। স্পষ্ট জানা গিয়েছে, সোভিয়েত, পার্টি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে সক্রিয় বহু কর্মী ১৯৩৭-৩৮ সালে 'শত্রু' বলে চিহ্নিত হয়েছিলেন, যাঁরা কোনওদিন শত্রু, অন্তর্ঘাতক, গুপ্তচর, ইত্যাদি নয়, প্রকৃতপক্ষে চিরকাল সৎ কমিউনিস্ট ছিলেন। কোনও কারণ ছাড়াই তাঁদের ওপর কলঙ্ক লেপন করা হত এবং বর্বর নিগ্রহ আর সহ্য না করতে পেরে, তাঁরা (তদন্তকারী বিচারকের- জালিয়াতের- হুকুম মেনে) সাংঘাতিক আর অসম্ভব সব অপরাধে নিজেদের অভিযুক্ত করতেন।" সরাসরি না হলেও ইঙ্গিতে খুশ্চেভ এক্ষেত্রে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন স্তালিনেরই দিকে। এর উপর ভিত্তি করেই পরবর্তীকালে বিভিন্ন বুর্জোয়া প্রচার মাধ্যম স্তালিনের নিষ্ঠুর রক্তলোলুপ একনায়কোচিত ভাবমূর্তি খাড়া করেছে। কিন্তু এর পিছনে সত্য কতটা? কেস-এর পর কেস ধরে আলোচনা করে লেখক দেখিয়েছেন, এঁদের বহুজনেরই বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য। অর্থাৎ খুশ্চেভের দাবি মতো নির্বিচারে এঁদের দণ্ড প্রদান করা হয়নি। অন্যদিকে নির্বিচার দমনের অভিযোগ যা ওঠে, নিশ্চিতভাবেই তার অভিমুখ স্তালিনের বদলে ধাবিত হয়, তৎকালীন NKVD প্রধান এজভ এবং অন্যান্য পার্টিপ্রধান রবার্ট আইখে, কাবাকভ, পক্তিশেভ, এমনকী স্বয়ং খুশ্চেভেরই বিরুদ্ধে। খুশ্চেভ অভিযোগ করেন যে "সামরিক বিচারকমণ্ডলীর এক্তিয়ারভুক্ত মামলায় পূর্বনির্ধারিত দণ্ড সমেত আসামীদের তালিকা NKVDকে দিয়ে প্রস্তুত করানো হত। প্রস্তাবিত শাস্তি অনুমোদন করার জন্য ১৯৩৭-'৩৮ সালে ব্যক্তিগতভাবে স্তালিনকে তালিকা পাঠাতেন এজভ। ...তিনি অনুমোদন করতেন।" এরকম ৩৩০টি তালিকার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যেগুলি বর্তমানে ইন্টারনেটে (www.memo.ru/history/vkvs/) সম্পাদিত ও প্রকাশিত। কিন্তু সেখানে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, এগুলি আদৌ সেরকম "স্তালিনের গুলি করার তালিকা" ছিল না। বাস্তবে এই তালিকাগুলি পলিটব্যুরো ও সচিবালয়ের অন্য সদস্যদের কাছে পাঠানো হত পর্যালোচনার জন্য (অর্থাৎ শুধুমাত্র স্তালিনের কাছে নয়)। উদ্দেশ্য ছিল, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় তবে আদালতের কাছে কী শাস্তি চাওয়া উচিত তার পর্যালোচনা। এমন অনেক দৃষ্টান্তই আছে যেখানে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং দণ্ডও প্রদান করা হয়নি। যেমন- ১৯৩৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সই করা কুইবিশেভ ওব্লাস্তের তালিকায় দেখা যায় সামরিক বিচারকমণ্ডলী একজনকেও শাস্তি দেয়নি। অধিকাংশই আবার তার মধ্যে বেকসুর খালাস পেয়েছেন। অন্যদিকে খুশ্চেভ নিজে প্রথমে মস্কো পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও পরে ইউক্রেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করার অনুমোদন চেয়েছিলেন। ১৯৩৮ সালে স্তালিনকেই লেখা একটি চিঠিতে খুশ্চেভ শুধুমাত্র মস্কোতেই ৪১,৩০৫ জনকে অপরাধী হিসেবে দমন করার অনুমোদন চান। ১৯৩৮ সালের জানুয়ারি মাসে খুশ্চেভ ইউক্রেনের পার্টি সংগঠনের নেতৃত্বে বসার পর ঐ বছর সেখানে মোট ১ লক্ষ ৬ হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অথচ গোপন প্রতিবেদনে এই সবই স্তালিনের নামেই চালানো হয়েছিল। স্তালিনের এই নির্বিচার দমন অভিযানের প্রমাণ হিসেবে খুশ্চেভ তাঁর ভাষণে ১৯৩৯ সালের ১০ জানুয়ারি NKVD কর্তাদের কাছে স্তালিন প্রেরিত একটি তারবার্তার উল্লেখ করেন। 'নির্যাতনের তারবার্তা' বলে উল্লিখিত এই তারবার্তায় নাকি লেখা ছিল- "প্রশ্ন উঠবে, বুজায়াদের ক্ষিপ্ত দালাল, শ্রমিকশ্রেণি এবং কলখজ কর্মীদের মারাত্মক শত্রুদের ব্যাপারে সমাজতন্ত্রের গুপ্তচর বিভাগ কেন বেশি মানবিক হবে। সারা ইউনিয়ন কমিউনিস্ট পার্টি (বলশেভিক) কেন্দ্রীয় কমিটি মনে করে, বাধ্যতামূলকভাবে শারীরিক চাপ প্রয়োগ করতে হবে। পরিচিত এবং অনমনীয় জনশত্রুদের ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত এবং সমুচিত পদ্ধতি বলে ব্যতিক্রম করতে হবে।" তারবার্তার এই অংশটুকু পড়ে দিয়ে খুশ্চেভ তাঁর ভাষণে অভিযোগ আনেন যে এইভাবে কেন্দ্রীয় কমিটির নাম করে পাশবিক নির্যাতন এবং উৎপীড়নকে মঞ্জুর করেছিলেন স্তালিন। তারই ফলে বহু নির্দোষ মানুষের নামে কুৎসা রটেছিল এবং নির্যাতনের সামনে পড়ে তাঁরা তা স্বীকার করে নিতেও বাধ্য হয়েছিলেন। লেখক গ্রোভার ফার এখানে কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছেন। প্রথমত তিনি দেখিয়েছেন, তারবার্তাটির অংশমাত্র এখানে তুলে ধরা হয়েছে। মূল তারবার্তাটির কোনও খোঁজ এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এর যে পাঠ ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়, তাতেও দেখা যায়, সেখানে বক্তব্য বরং ঠিক বিপরীত। এজভের নেতৃত্বাধীন NKVDর লোকজনের এই ধরনের অত্যাচারের সেখানে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে এই পদ্ধতি একমাত্র ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কিন্তু দেখা যাচ্ছে কিছু আঞ্চলিক পার্টি সম্পাদকের প্ররোচনায় NKVD ব্যতিক্রমকেই নিয়মে পরিণত করেছে। দ্বিতীয়ত এটি পাঠানোর তারিখ ১৯৩৯ সালের ১০ জানুয়ারি বলা হলেও কোথাও তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং ১৯৫৭সালের পার্টি প্লেনামে আলোচিত আঞ্চলিক সম্পাদকদের কাছে প্রেরিত কেন্দ্রীয় কমিটির অন্য এ ধরনের একটি তারবার্তার খোঁজ পাওয়া যায়, যা প্রেরণের তারিখ ১৯৩৯ সালের ২৭ জুলাই। কিন্তু সেই তারবার্তার অনুলিপির সাথেও এর সম্পূর্ণ মিল পাওয়া যায় না। সব মিলিয়ে লেখকের অনুমিত সিদ্ধান্ত খুশ্চেভ উল্লিখিত সেই তথাকথিত 'নির্যাতনের তারবার্তা' সম্ভবত জাল। সেই সঙ্গে এই বিষয়ে অন্য গবেষকদের কাজের উল্লেখ করে লেখক দেখিয়েছেন যে ঐ ১৯৩৯ সালেরই ২২ মার্চ খুশ্চেভ নিজে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। অর্থাৎ, ঐ বছরের জুলাই মাসে কেন্দ্রীয় কমিটি প্রেরিত তারবার্তার দায় তিনি নিজেও এড়াতে পারেন না। প্রশ্ন ওঠেই, সেই কারণেই কি ঐ তারবার্তার তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে জানুয়ারি মাসে, যা সত্যি সত্যি প্রেরণের কোনও প্রমাণ আজ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। খ্রুশ্চেভের ঐ গোপন প্রতিবেদনে যুদ্ধের সময়ে ডালিনের ভূমিকা ও নেতৃত্ব সম্বন্ধেও বহু কথা বলা হয়েছে। স্বভাবতই পুজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী প্রচারমাধ্যমও তা লুফে নেয়। কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে স্তালিনের নেতৃত্বে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মিত্রপক্ষের জয় বিশ্বজুড়েই সাধারণ মানুষের সামনে সমাজতান্ত্রিক শিবির ও তার নেতা হিসেবে স্তালিনের যে বিশাল ভাবমূর্তি তৈরি করে, তার মূলে আঘাত হানার পক্ষে এর থেকে সুবিধেজনক আর কিছু হয় না। খুশ্চেভের গোপন ভাষণ উল্লেখ করে করে লেখক দেখিয়েছেন কীভাবে সেখানে ডালিনের বিরুদ্ধে এইধরনের অভিযোগ প্রথম উথাপন করা হয়। ঘুশ্চেভ অভিযোগ করেন যে জার্মান আগ্রাসনের প্রাক্কালে যুদ্ধসম্পর্কিত সমস্ত সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিলেন ডালিন। বিভিন্ন সূত্র থেকে আসা সেইসব সতর্কবার্তার পরস্পরবিরোধী প্রকৃতির উল্লেখ করে ও বিশ্বযুদ্ধের সময়ে বিভিন্ন সোভিয়েত সেনাপতিদের লেখাকে উল্লেখ করে লেখক দেখান যে, এই অভিযোগ আদৌ সত্য নয়। বরং ঐসব সতর্কবার্তাকেই শিরোধার্য করে নিয়ে প্রথমেই জার্মান সীমান্তে ব্যাপক সেনা সমাবেশ ঘটালে আদপে মারাত্মক ভুল করা হত। কারণ তাতে হিটলারকেই যুদ্ধ শুরু করার অজুহাত ও প্ররোচনার জোগান দেওয়া হত। তাছাড়া মার্শাল জুকভ, প্রমুখ সেনানায়কের অভিমত অনুযায়ী যুদ্ধের শুরুতেই পশ্চিম সীমান্তে সমস্ত শক্তি জড়ো না হওয়ায় আখেরে যুদ্ধে সোভিয়েতেরই সুবিধা হয়েছিল। কারণ সেক্ষেত্রে জার্মান আক্রমণের মারাত্মক অভিঘাতে সেই শক্তির প্রথমেই সম্পূর্ণ ধবংস হয়ে যাবার গুরুতর সম্ভবনা খারিজ করা যায় না। ফলে পরবর্তী সময়ে মস্কো বা লেনিনগ্রাদে যে লড়াই করা সম্ভব হয়েছিল, তার আর কোনও সম্ভবনাই থাকত না। এই প্রসঙ্গে বহুপ্রচারিত এক স্তালিনবিরোধী কুৎসারও স্বরূপ উদাটন করেন লেখক গ্রোভার ফার। ১৯৪১ সালের ২২ জুন, যুদ্ধ শুরুর অব্যবহিত পূর্বে ২১ জুন রাত ১০টা নাগাদ জনৈক জার্মান সৈনিক আলফ্রেড লিঙ্কভ নিজ উদ্যোগে সীমান্ত পেরিয়ে এসে আত্মসমর্পণ করেন ও সোভিয়েত কর্তৃপক্ষের কাছে পরদিন ভোররাতে জার্মান আগ্রাসন শুরুর খবর দেন। গ্রুশ্চেভ তাঁর ভাষণে অভিযোগ তোলেন যে এমনকী সে অভিযোগও উপেক্ষা করেছিলেন ডালিন। অথচ, সত্য আদৌ তা নয়। নিজের প্লাটুন কম্যান্ডার জনৈক ক্যাপ্টেন শুলৎস আগের দিন অর্থাৎ ২১ জুন রাত ৯টার সময় পরদিন ভোরে আক্রমণ শুরুর খবর প্লাটুনের সৈনিকদের দিলে লিঙ্কভ তার কথা জানতে পারেন। এরপরে তিনি নদী সাঁতরে সীমান্ত পেরিয়ে আসেন। সেখানেও ভাষার ব্যবধানের কারণে তাঁর সতর্কবার্তা বুঝতে সময় যায়। শেষপর্যন্ত যখন খবরটি বুঝতে পেরে মস্কোতে টেলিফোনে জানানো হয়, তখন রাত ৩টে বেজে ১০ মিনিট, অর্থাৎ আগ্রাসন শুরুর মাত্র ৪০ মিনিট আগে। ভালিন সম্ভবত সময়মতো বার্তাটি জানতেই পারেননি। তাহলে উপেক্ষার প্রশ্ন আসে কোথা থেকে? তাছাড়া খুশ্চেভনিজেও ১৯৬০-এর দশকে প্রকাশিত আত্মজীবনীতে এই অভিযোগের প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গিয়েছেন। অথচ আমরা দেখি এ অসত্য অভিযোগটিই ক্রমাগত পল্লবিত হয়েছে। ১৯৯০ সালে নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত লুইস জোনাথন ও হোয়াইঠেড ফিলিপ লিখিত স্তালিনের একটি জীবনীতে যেমন দাবি করা হয়, প্ররোচনা দেবার অপরাধে স্তালিন নাকি সেই বাহিনীত্যাগীকে সাথে সাথেই গুলি করার নির্দেশ দেন। ২০০৫ সালে মস্কো থেকে প্রকাশিত ইগর পিখালভের বই Velikaia Obolganniai Voina (The Great Calumniated War)-তে The Fate of a Deserter বলে একটি অধ্যায়ই সংযোজিত হয়েছে। সেখানেও সেই একই গল্প আরও বিস্তারিত ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফাঁদা হয়েছে। অথচ লেখক দেখান পুরো অভিযোগটিই সর্বৈব মিথ্যা। ৯০ নং সীমান্তবাহিনীর (অর্থাৎ যে বাহিনীর কাছে লিস্কভ বার্তাটি প্রথম পৌঁছে দেন) অধিনায়ক মেজর বাইচকভস্কির এই সংক্রান্ত যে প্রতিবেদন এখানে লেখক তুলে দিয়েছেন, তাতে আগের প্যারাগ্রাফে উল্লিখিত প্রকৃত ঘটনার বিস্তারিত বিবরণই পাওয়া যায়। তাছাড়া ১৯৪৪ সালের আগস্ট মাস থেকে লালফৌজের বিশেষ প্রচার বিভাগের প্রধান মেজর জেনারেল বুর্ৎসেভের স্মৃতিকথাতেও পাওয়া যায়, লিস্কভকে এর পরপরই মস্কোয় উড়িয়ে আনা হয়, তাঁর বীরত্বের কাহিনী প্রাভদায় প্রকাশিত হয়, এমনকী প্রচারের উদ্দেশ্যে ছবিসহ ইস্তেহারও প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ গুলি করার রটনাটি পুরোপুরি মিথ্যা। বরং তিনি যে সোভিয়েত কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযোগ্য সম্মানই পেয়েছিলেন, সেটাই প্রকৃত সত্য। গ্রোভার ফারের এই বইতে এই ধরনের বহু স্তালিনবিরোধী কুৎসার উৎস ও স্বরূপ প্রামাণ্য নথিপত্র সহযোগেই উঠে এসেছে। সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মী সমর্থক ও সাধারণভাবে বাম মনোভাবাপন্ন সমস্ত পাঠকের কাছেই এই বই তাই অবশ্যপাঠ্য। মিথ্যার দীর্ঘ কালিমার তলায় ঢাকা পড়া সত্যকে পুনরায় আলোর সম্মুখে আনার এই প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসার্হ। বামপন্থী আন্দোলন ও সমাজতন্ত্রের বর্তমান সাময়িক ভাঁটার যুগে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ যখন বহুগুণে পল্লবিত হয়ে সাধারণ মানুষের সামনে তাকে কলঙ্কে ঢেকে রাখতে উদ্যত, ঠিক সেই সময়ে এই ধরনের সত্যান্বেষন অবশ্যই আলাদা গুরুত্ব বহন করে। ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করে গ্রন্থটি প্রকাশের জন্য এনবিএ-কে ধন্যবাদ। অনুবাদ আরেকটু প্রাঞ্জল হওয়ার অবকাশ থাকলেও ধন্যবাদ অনুবাদক সিদ্ধার্থ ভৌমিককে। ¤ (পথিকৃৎ-এর ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সংখ্যা থেকে নেওয়া)

পথিকৃৎ

আমাদের পত্রিকা ওয়েবসাইটের সাথে যুক্ত থাকুন এবং সর্বশেষ খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট নিয়মিত পান

যোগাযোগ

পথিকৃৎ
৮৮বি বিপিন বিহারী গাঙ্গুলী স্ট্রিট
কলকাতা ৭০০০১২

দূরাভাষ- 9433046280, 9433451998
ইমেইল- pathikritpatrika@gmail.com

গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ

© Pathikrit. All Rights Reserved. Designed By GenxByte